নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ঢাকার মধ্য বাড্ডায় প্রায় নয় বছর আগে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করার দায়ে স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার আগে দণ্ডিত মনির হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকির খাতুন সোমার বিয়ে হয়। সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নিলেও পরবর্তীতে মনির ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করতে থাকেন। বিভিন্ন সময়ে সোমার পরিবার তাকে প্রায় ১১ লাখ টাকা দিলেও আরও অর্থের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে সোমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন মনির। পরে আর নির্যাতন করবেন না বলে আশ্বাস দিয়ে তাকে আবার বাসায় ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ওই বছরের ৬ অক্টোবর টাকা-পয়সা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমার গলা কেটে হত্যা করেন। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দিনই নিহতের মা আক্তার বানু বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মনিরকে গ্রেপ্তার করলে তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ১৭ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত মনিরকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।