
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল কার্যত ব্যাহত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা ও খোর ফাক্কান বন্দর এখন উপসাগরীয় বাণিজ্যের প্রধান ভরসায় পরিণত হয়েছে। দুই বন্দর দিয়েই ভারত মহাসাগরে সরাসরি প্রবেশ সম্ভব হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের বড় অংশ এখন এখানেই কেন্দ্রীভূত।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর ফুজাইরা বন্দর দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রায় ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে খোর ফাক্কান বন্দরে কনটেইনার পরিবহনের চাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেখানে সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার কনটেইনার সামলানো হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজারে।
বন্দর দুটির ওপর নির্ভরতা বাড়ার মধ্যেই সোমবার ফুজাইরার তেল শিল্পাঞ্চলে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। হামলায় একটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন। যদিও এখন পর্যন্ত বন্দরগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি সচল রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে পড়ায় আরব আমিরাত দ্রুত বিকল্প বাণিজ্য রুট সক্রিয় করতে সক্ষম হলেও কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো এখন এই দুই বন্দরের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
ফুজাইরা বন্দর আবু ধাবির তেল পাইপলাইনের শেষপ্রান্ত হওয়ায় এটি এখন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে খোর ফাক্কান হয়ে উঠেছে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি পণ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই বিকল্প বন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্য এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।