
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শুধু বোরো ধানই নয়, নষ্ট হয়েছে কৃষকের বছরের প্রধান গোখাদ্য খড়ও। ফলে খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গবাদিপশু রক্ষা নিয়েও চরম উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।
শাল্লা, দিরাই ও আশপাশের হাওর এলাকায় কৃষকেরা জানান, পানিতে ডুবে থাকা ধান কাটার সুযোগ হারানোর পাশাপাশি আগে কাটা ধানও রোদ না পাওয়ায় অঙ্কুর গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে পচে যাচ্ছে খড়, যা সারা বছরের গরুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
শাল্লার কৃষাণি ছায়া রানী দাস বলেন, ২৭ বিঘা জমির অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কাটা ধানের খড়ও পচে যাওয়ায় আটটি গরু নিয়ে এখন বড় সংকটে পড়েছেন তিনি। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন দিরাই ও ছায়ার হাওরের আরও অনেক কৃষক।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে প্রায় সাত লাখের বেশি গবাদিপশু রয়েছে এবং প্রতিবছর হাওরে বিপুল পরিমাণ খড় উৎপাদিত হয়। কিন্তু এবার বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে খড় পানিতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে গোখাদ্যের বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কৃষকেরা বলছেন, অর্থ সংকটের কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে গরু বিক্রির চিন্তা করছেন। তবে বাজারে গবাদিপশুর দামও কমে গেছে। ফলে ক্ষতির বোঝা আরও বাড়ছে।
এদিকে হাওরের ঐতিহ্যবাহী ‘খড়ের লাছি’ উৎসবও এবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিবছর ধান কাটার পর খড় সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও এবার খড় নষ্ট হওয়ায় সেই আয়োজনও হচ্ছে না।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ক্ষতিপূরণ, গোখাদ্য সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।