
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বাংলাদেশে টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল বলে জানিয়েছে UNICEF বাংলাদেশ। সংস্থাটি বলছে, টিকা কার্যক্রম সচল রাখা, সময়মতো ক্রয় সম্পন্ন করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল।
ইউনিসেফ জানায়, ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে হাম-রুবেলা, পোলিও, টিটেনাস ও বিসিজি টিকার সম্ভাব্য সংকট এবং সরবরাহ ব্যাহত হলে শিশুদের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি টিকা কেনা হলেও পরে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় যাওয়ায় সময়ক্ষেপণ হয়। এতে টিকা সরবরাহে বিলম্ব তৈরি হয় এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
ইউনিসেফ আরও জানায়, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়তে শুরু করলে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
সংস্থাটি বলছে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কিনতে দীর্ঘ সময় লাগে, যা জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য তারা আগের সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে মত দেয়।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে শত শত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টিকা সরবরাহ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বিলম্বের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।