নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে হাম আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের ৫৯ দশমিক ৪ শতাংশ কোনো না কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ক্লিনিক বা হাসপাতালে যাওয়ার পর হাম আক্রান্ত হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে অপুষ্টিরও উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হাম আক্রান্ত শিশুদের তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করা হয়। বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সম্মেলন কক্ষে এর ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় থাকা ২০০ শিশুর মধ্যে ১৬৭ জনের হামের টিকা নেওয়া ছিল না। তবে তাদের ৯১ জন তখনও নিয়মিত টিকাদানের বয়সে পৌঁছায়নি। আক্রান্ত শিশুদের ৪৬ শতাংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকা নেওয়ার নির্ধারিত বয়সের আগেই হাম আক্রান্ত হয়েছে।
আক্রান্তদের মধ্যে ১৪৮ জন বা ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামীণ এলাকার এবং ১২৭ জন বা ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ নিম্ন আর্থ-সামাজিক পরিবারের শিশু। গবেষণায় প্রায় ৩১ শতাংশ শিশুর তীব্র পুষ্টিহীনতা পাওয়া গেছে। ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণের ক্ষেত্রেও ঘাটতির তথ্য উঠে এসেছে। গত ছয় মাসে আক্রান্ত শিশুদের মাত্র ৩২ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেয়েছিল।
গবেষকরা বলছেন, অপুষ্টি, দারিদ্র্য, অতিরিক্ত জনবসতি এবং ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি হামের গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ না পাওয়া শিশুদের একটি বড় অংশের মধ্যে তীব্র জটিলতা দেখা গেছে।
গবেষণায় হামের ১৭টি নমুনার জিনোম বিশ্লেষণ করা হয়। সব নমুনাতেই বি-থ্রি জেনোটাইপ শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি নতুন কোনো অজানা ধরনের ভাইরাস নয় এবং টিকাদানের মাধ্যমে এ ধরনের হাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংক্রমণের বিষয়টিও গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে। গবেষকদের মতে, হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে একই জায়গায় একাধিক রোগী থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শনাক্ত হওয়ার আগে উপসর্গ নিয়ে হাম আক্রান্ত শিশুরা সাধারণ ওয়ার্ডে থাকায় অন্য রোগীদের মধ্যেও ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হাম নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা, বাদ পড়া শিশুদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়া, পুষ্টি ও ভিটামিন ‘এ’ নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আলাদা রাখার সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে পৃথক আইসোলেশন সুবিধা ও পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের তথ্য অনুযায়ী, টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে গুরুতর জটিলতার হার টিকাপ্রাপ্তদের তুলনায় বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত আইসোলেশন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।