নিউজ প্রবাসী ডেস্ক:
নারীদের পরিচিত যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস বা বিভি সংক্রমণ চিকিৎসার পরও কেন বারবার ফিরে আসে, তার দুটি প্রধান কারণ শনাক্ত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা। তাদের মতে, সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া এবং নতুন করে সংক্রমিত হওয়া—দুই কারণেই চিকিৎসার পর ফের বিভি দেখা দিতে পারে।
বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ল্যানসেট অবস্টেট্রিক্স, গাইনোকোলজি অ্যান্ড উইমেন্স হেলথ’-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটিতে ১৮৮ জোড়া দম্পতি অংশ নেন।
গবেষকদের ভাষ্য, যোনিতে থাকা স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হলে বিভি হতে পারে। এ সময় উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ কমে গিয়ে অন্য ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য দেখা দেয়।
এর আগে একই গবেষক দলের এক গবেষণায় দেখা যায়, আক্রান্ত নারী ও তার পুরুষ সঙ্গীকে একসঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করলে বিভি পুনরায় হওয়ার হার ৬০ শতাংশের বেশি কমতে পারে। তবে ওই গবেষণায় প্রায় ২০ শতাংশ নারী চিকিৎসার পরও পুরোপুরি সুস্থ হননি। নতুন গবেষণায় সেই কারণই খতিয়ে দেখা হয়েছে।
গবেষণায় নারীদের এক সপ্তাহ মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক এবং পুরুষ সঙ্গীদের মুখে খাওয়ার পাশাপাশি ত্বকে ব্যবহারের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ দেওয়া হয়।
গবেষকরা দেখতে পান, চিকিৎসার পর বিভি ফিরে আসার দুটি আলাদা পথ রয়েছে। এক ক্ষেত্রে এক সপ্তাহের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ হওয়ার পরও সংক্রমণ পুরোপুরি দূর হয় না। অন্য ক্ষেত্রে চিকিৎসার পর নতুন করে সংক্রমণ ঘটে।
মোনাশ ইউনিভার্সিটি ও মেলবোর্ন সেক্সুয়াল হেলথ সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এবং গবেষণাটির প্রধান লেখক ড. লঙ্কা ভোডস্ট্রসিল বলেন, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নারী চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরদিনই স্বাস্থ্যকর যোনি মাইক্রোবায়োমে ফিরে যান। সেখানে ল্যাকটোব্যাসিলি নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখা যায়।
অন্য এক-তৃতীয়াংশ নারীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার পরও মাইক্রোবায়োমে বিভি-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন থেকে যায়। গবেষকদের ধারণা, এদের অনেকের সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। ফলে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার বিভি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি ছিল।
গবেষকদের মতে, সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া এবং সঙ্গীর মাধ্যমে পুনরায় সংক্রমিত হওয়া আলাদা প্রক্রিয়া হলেও একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে দুটিই ঘটতে পারে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় ৩০ শতাংশ নারী ইন্ট্রাইউটেরাইন ডিভাইস বা আইইউডি ব্যবহার করতেন। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, কিছু নারীর ক্ষেত্রে চিকিৎসার পরও বিভি স্থায়ী হওয়ার সঙ্গে আইইউডির সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. ভোডস্ট্রসিল বলেন, বিভি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে আক্রান্ত নারীদের পুরোপুরি সুস্থ করার নতুন চিকিৎসা কৌশল তৈরি করা সম্ভব হবে।
বিজ্ঞানীরা এখন চিকিৎসার মেয়াদ বাড়ানো এবং একাধিক অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বয়ে চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার পরিকল্পনা করছেন। তাদের লক্ষ্য হলো, নারীদের যেন বছরে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে না হয়।
গবেষণাটির আরেক লেখক অধ্যাপক ক্যাট্রিয়োনা ব্র্যাডশ বলেন, পুনঃসংক্রমণ ঠেকাতে সঙ্গীর চিকিৎসা এবং বিভি-সংশ্লিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার স্থায়িত্ব রোধ—দুই দিকেই কার্যকর কৌশল তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা শহুরে অস্ট্রেলিয়ার জনগোষ্ঠীর। তাই অন্যান্য দেশের জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, একই ফলাফল সরাসরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।