নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাই কোর্টের বিচারপর্ব শেষ হয়েছে। এখন সর্বোচ্চ আদালতে আপিল শুনানি ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ৭ অক্টোবর তার বাবা বরকত উল্লাহ চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ৩৭ দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার শুরু হয়। পরের বছর ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়। ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি হাই কোর্টে আসে। একই সঙ্গে আসামিরাও বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাই কোর্টে মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ১৬ মার্চ দেওয়া রায়ে বিচারিক আদালতের সাজা বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।
হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ১৬ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সরাসরি আপিল করেছেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনও আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। মামলার প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত করা হলেও এখনও আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য মামলাটি ওঠেনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে সাধারণত মামলা সন-তারিখের ভিত্তিতে শুনানি হয়। তবে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার দিলে মামলাটির শুনানি দ্রুত হতে পারে।
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো ধরনের মুলতবি চাইবে না। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের অবস্থান বলেও তিনি জানান।
আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহও মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। তার প্রত্যাশা, দ্রুত বিচার শেষ করে দণ্ডিতদের সাজা কার্যকর করা হবে।
হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণে আবরার হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেছে, ৫ অক্টোবরের একটি সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের পর পরিকল্পিতভাবে আবরারকে হত্যা করা হয়। আবরারকে মারধরের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও তাকে উদ্ধারের চেষ্টা না করায় আসামিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামির সবাই বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিনজন বিচারিক আদালতের রায়ের সময় থেকেই পলাতক। আরেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি ২০২৪ সালের আগস্টে গাজীপুরের হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যান।