নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ পাওয়ায় উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা। বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বুধবার বিকেল থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক জানান, গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটে কারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে বুধবার বিকেলে বয়লারে ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে হয়।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণেই বয়লারে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারখানার অন্যান্য যন্ত্রপাতি সচল রয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে বয়লারের ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কারখানা পুরোপুরি স্বাভাবিক উৎপাদনে যেতে না পারলেও দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৬০০ টন সার উৎপাদন হয়েছে বলে জানান তিনি।

যমুনা সার কারখানার প্রাথমিক দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ টন। তবে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বর্তমানে এর সক্ষমতা কমে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টনে দাঁড়িয়েছে।

গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ২৩ মাস কারখানাটি বন্ধ ছিল। পরে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় তখন উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ পাওয়ার পর সোমবার গভীর রাতে কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা আবার বন্ধ হয়ে গেল।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে।

কারখানার কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন সম্ভব। এতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মুনাফা হতে পারে। তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানার যন্ত্রপাতি সচল রাখাসহ অন্যান্য কাজে প্রায় ৬ কোটি টাকা গ্যাস বিল দিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts