আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউক্রেনে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবারের এ হামলায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলায় শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মধ্যে প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যার অনেকগুলো উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাশাপাশি কয়েক ডজন শাহেদ ড্রোনও ব্যবহার করা হয়।

হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চের্নিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকি শহর। সেখানে একটি পাঁচতলা ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়।

চের্নিহিভের গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ চাউস জানান, ওই ঘটনায় প্রথমে পাঁচ শিশুসহ ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২ জনে দাঁড়ায়।

এ ছাড়া কিয়েভের উপকণ্ঠে একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুইজন নিহত হন। একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ড্রোন হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারান। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেন, রুশ বাহিনী ৭ অক্টোবর, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্মদিনে হামলাগুলো চালিয়েছে। রাতের ভিডিও বার্তায় তিনি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং একে যুদ্ধের অন্যতম জঘন্য হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও জানান, কিয়েভের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শহর ওলেকসান্দ্রিয়া ও ক্রেমেনচুকেও বেসামরিক মানুষের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। প্রিলুকিতে একটি পাঁচতলা ভবন ধসে পড়ার পাশাপাশি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকের কয়েকটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা ইউক্রেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও পাওয়ার জন্য ইউক্রেন নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কিয়েভসহ কয়েকটি অঞ্চলের এমন স্থাপনা, যেখানে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফায়ার পয়েন্ট’ তাদের ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি ও দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করে।

এর আগে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ চলাকালে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ‘ফায়ার পয়েন্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানটি এসব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি এফপি-৯ ক্ষেপণাস্ত্র মস্কো পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts