নিউজ প্রবাসী ডেস্ক

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নকল-ভেজাল পণ্যের বিক্রি বন্ধে দেশের ২৮ জেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৮২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন জেলায় অধিদপ্তরের ৪৩টি দল পাইকারি ও খুচরা বাজারে একযোগে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

অভিযানের অংশ হিসেবে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় নকল পণ্যের প্যাকেট তৈরি ও বাজারজাতের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল ও ইন্দ্রানী রায়ের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অধিদপ্তর জানায়, নেসক্যাফে কফি, অ্যামেরিকান বারবিকিউ সস ও ইয়োলো মাস্টার্ড সসের নকল প্যাকেজিং করে বাজারজাত করার দায়ে দোহা করপোরেট, মাসুম এন্টারপ্রাইজ ও জুনায়েদ এন্টারপ্রাইজকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫০ ধারায় দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে এসআরবি-১ ও বাড্ডা থানা পুলিশ সহায়তা করে।

দেশব্যাপী তদারকিতে গ্যাস সিলিন্ডারসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহ, পণ্যের দাম এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি দোকানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের বিষয়েও নজরদারি করা হয়।

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে সঠিক মূল্যতালিকা টাঙানো, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি এবং ওজন ও পরিমাপে সঠিকতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, নকল-ভেজাল এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে পণ্য কেনাবেচার রশিদ বা ভাউচার সংরক্ষণ এবং ক্রেতাদের তা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ভোক্তাদের সচেতন করতে অভিযান চলাকালে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা-অধিকার রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনা, পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই এবং কেনাকাটার সময় রশিদ সংগ্রহের জন্য ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পণ্য কেনার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts