নিউজ প্রবাসী ডেস্ক :

সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি গোষ্ঠীর হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাঁদের একজন বগুড়ার মো. শাহেদ আহম্মেদ এবং অন্যজন কুমিল্লার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় আহত চার বাংলাদেশি বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য এবং নিহতদের পাসপোর্ট যাচাই করে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা মোছা. শাহেরা বেগম। অপর নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা মোহাম্মদ উল্লাহ এবং মা জাহানারা বেগম।

শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ এখন পর্যন্ত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতি গোষ্ঠীর চলমান হামলার ধারাবাহিকতায় বিমানবন্দরটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর আগেও গত এক সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে আরও দুই দফা হামলা হয়। ওই হামলাগুলোতে চারজন নিহত এবং অনেকে আহত হন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একটি উড়োজাহাজও।

আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা

রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, হামলায় আহত চার বাংলাদেশি রিয়াদের কিং খালিদ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ মিশন কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হামলাটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক হতাহত হয়েছেন। আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় ও তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। সৌদি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসী কর্মীদের মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যয় সাধারণত সরকার বহন করে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানান তিনি।

সংঘাত বন্ধের আহ্বান বাংলাদেশের

সৌদি বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংঘাত পরিহার করে কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

শামা ওবায়েদ বলেন, জীবিকার সন্ধানে বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের এ ধরনের প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যুদ্ধের কারণে নিরীহ মানুষের মৃত্যু বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে ৪ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুতি গোষ্ঠীর হামলায় এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে বাংলাদেশিদের প্রাণহানির বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রোববার আরও জানান, এ অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে বিমানবন্দরে নিহত নতুন দুই বাংলাদেশি অন্তর্ভুক্ত কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts