নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসা পাঁচটি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। তবে পবিত্র নগরী মদিনার দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে বিরোধ।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পৃথক বার্তায় সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালকি জানান, সৌদি আরবের দিকে আসা চারটি ড্রোন প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। পরে আরেকটি বার্তায় তিনি পূর্বাঞ্চলে আরও একটি ড্রোন ধ্বংসের তথ্য দেন। আল অ্যারাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাগুলোর মধ্যে মদিনা অঞ্চলও রয়েছে।
তবে সৌদি জোটের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, হুতিরা মদিনার দিকে কোনো ড্রোন পাঠায়নি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানও চালায়নি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে, দেশটির রাজধানী সানাসহ বিভিন্ন এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হুতিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ায় ইয়েমেনের সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এর আগে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোকে লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় দেশটির বিমান চলাচল ও তেল রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনেও সংঘাতের ভয়াবহতা বাড়ছে। মঙ্গলবার দেশটির সাবওয়া প্রদেশে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৭৩ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। পরদিন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এডেন বিমানবন্দরেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া যায়।
২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে তৎকালীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আঞ্চলিক মাত্রা পায়। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে দেশটি ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে।
সৌদি আরবে ড্রোন প্রতিহত করার দাবি এবং হুতিদের তা অস্বীকার করার ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ড্রোনগুলোর উৎস ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।