নিউজ প্রবাসী ডেস্ক:

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাঝপথে বিশ্বভ্রমণ স্থগিত করেছে বিলাসবহুল আবাসিক প্রমোদতরী ‘ভিলা ভি ওডিসি’। দুই বছরের বেশি সময় ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ানো এই জাহাজটির যাত্রীদের কম্বোডিয়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপাতত কার্যক্রম বন্ধ রেখে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস মঙ্গলবার কম্বোডিয়ায় কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে জাহাজের বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর জ্বালানি খরচ কমাতে জাহাজটির গতি কমানো এবং বিভিন্ন বন্দরে বেশি সময় অবস্থানের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এসব উদ্যোগেও লোকসান সামাল দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কারণে জ্বালানির মূল্য বেড়ে আর্থিক চাপ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। অতিরিক্ত ব্যয়ের পুরোটা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করাও বাস্তবসম্মত নয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনর্গঠন ও নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে সেই উদ্যোগ সফল হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ব্যয় বেড়েছে কয়েক গুণ

উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট থেকে যাত্রা শুরুর পর দুই বছরের বেশি সময় ধরে সমুদ্রে ঘুরে বেড়িয়েছে ৬৪০ ফুট দীর্ঘ ‘ভিলা ভি ওডিসি’। পরিকল্পনা ছিল বিশ্বের ৪০০টির বেশি গন্তব্যে যাওয়া।

জাহাজটিতে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য পাঁচ বছরের প্যাকেজের মূল্য শুরু হয়েছিল ৫৯ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। স্থায়ী কেবিন কিনতে খরচ ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৯ ডলার। কেবিনের ধরন অনুযায়ী মাসিক ফিও নির্ধারিত ছিল কয়েক হাজার ডলার। এর মধ্যে খাবার, পানীয়, ইন্টারনেট, চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরিচ্ছন্নতার মতো সেবা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি কেবিনের মাসিক জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে এই ব্যয় আরও চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অনিশ্চয়তায় যাত্রীরা

প্রমোদতরীর যাত্রী হলি হেনেসি জানান, জাহাজ ছাড়ার এক দিনেরও কম সময় আগে তাঁদের যাত্রা বন্ধের বিষয়টি জানানো হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছিল। গত মে মাসে যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত জ্বালানি ফিও চাওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার কমিয়ে দেওয়ায় জাহাজে বসবাস করাও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল বলে জানান তিনি।

তবে এসব সমস্যার মধ্যেও ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে ‘অমূল্য’ বলে বর্ণনা করেছেন হেনেসি।

অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা শ্যারন লেন নিজের সারা জীবনের সঞ্চয় বিনিয়োগ করে জাহাজটিতে একটি কেবিন কিনেছিলেন। গত জুনে সিএনএনকে তিনি জানিয়েছিলেন, জাহাজটি যত দিন বিশ্বভ্রমণ করবে, তত দিন সেখানেই থাকার পরিকল্পনা তাঁর।

তিনি বলেছিলেন, জাহাজটিই তাঁর ঘর এবং সেখানে বসবাস করতে তিনি ভালোবাসেন।

গত বছর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, জাহাজটি আরও ১৫ বছর সমুদ্রে চলতে পারবে বলে তাদের ধারণা। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক সংকটের মুখে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts