নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বরিশাল, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী।

ডিবি কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাগ্নে আলিফ মোল্লাহ এ কার্যক্রমের সমন্বয় করছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ঢাকায় আনার পেছনে তাঁর ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আন্দোলনস্থলে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতি ছিল বলেও দাবি করেন রাকিব খান। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের ভাষ্য, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢুকে সহিংসতা ও নাশকতার চেষ্টা করেছেন। ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলামও দুপুরে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ করেন।

এদিকে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার আবু নাসের রিকাবদার জানান, সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি। সব মিলিয়ে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ২৮।

পাঁচ ঘণ্টার অবরোধ ও সংঘর্ষ

রোববার সকাল থেকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরসহ মিরপুর-১১, ১২ ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন পোশাকশ্রমিকেরা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। প্রায় দুপুর ২টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলে।

এ সময় মিরপুরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে সড়ক ও রেলপথে চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন আবাসিক এলাকার প্রবেশপথেও নিরাপত্তার কারণে ফটক বন্ধ রাখায় ভোগান্তিতে পড়েন বাসিন্দারা।

শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও কর্মজীবী মানুষকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়। বিকল্প সড়ক ও গলিতে যানবাহনের চাপ বাড়ে। রিকশা ও মোটরসাইকেলের ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও করেন যাত্রীরা।

ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজল হক বকশী জানান, বিভিন্ন স্থানে অবরোধের কারণে সকাল থেকে যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts