নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
২০২৬ সালের বহুল আলোচিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে (US Midterm Elections 2026) বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনে মার্কিন ক্যাপিটল হিলের দুই কক্ষ সিনেট (Senate) এবং প্রতিনিধি পরিষদ (House of Representatives) উভয়েরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনে ক্ষমতার এই বড় ধরনের পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত সামরিক অভিযানে আকস্মিক মোড় ঘুরে গেছে।
নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার পারদ ও সামরিক পরিকল্পনা
ভোটগ্রহণের আগের দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, মধ্যবর্তী নির্বাচন পার হলেই ইরানের কৌশলগত ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক বা বিমান হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয়ের পরই ট্রাম্পের ওপর ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন।
কিন্তু ভোটের ফলাফলে রিপাবলিকানদের ঐতিহাসিক পরাজয় সেই সামরিক সমীকরণকে বদলে দিয়েছে।
নির্বাচনে বিশাল জয় ডেমোক্র্যাটদের
৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অতিরিক্ত আসন ছিনিয়ে নিয়ে আসন সংখ্যা ৫৪-এ উন্নীত করেছে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদেও মেজরিটি অর্জন করে সরকার নিয়ন্ত্রণে রাখার পথ সুগম করেছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলাফল প্রকাশের পর রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারক ও হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়।
সুর বদলালেন ট্রাম্প: আপাতত ইরানে হামলা নয়
নির্বাচনে ভরাডুবির ঠিক পরদিন, ৪ নভেম্বর, যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (Financial Times)-কে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি জানান, আপাতত ইরানে নতুন কোনো সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। তিনি বলেন,
“আমাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ (Locked and Loaded) অবস্থায় আছে। তবে এই মুহূর্তে ইরানে নতুন করে আক্রমণ করার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ বা প্রয়োজন আমরা দেখছি না। পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে আমরা যা চাচ্ছি, তা পেয়ে যাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে।”
ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের জন্য নতুন করে আন্তর্জাতিক যুদ্ধে জড়ানো বা সামরিক বাজেট অনুমোদন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ডেমোক্র্যাটদের এই জয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের ঝুঁকি আপাতত হ্রাস পেয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।