নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
খুলনা রেলওয়ে স্টেশনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি কালি দিয়ে ঢেকে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। প্রতিকৃতির পাশে দুটি প্রচারপত্রও লাগানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও নগর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, বিকেলে বিষয়টি জানার পর পুলিশ খোঁজখবর শুরু করেছে। তবে ঘটনার সময় সড়কের বিপরীত পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় কারা এবং কখন এ কাজ করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খুলনা সফর উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে রেলস্টেশন এলাকার দেয়ালে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান, সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও পাটশিল্পের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ খুলনা অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছিল।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, পুরাতন যশোর রোডের পাশের দেয়ালে ফকির লালন সাঁই, চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতি রয়েছে। এসবের মধ্যে শুধু রবীন্দ্রনাথের ছবিটিতেই কালি মাখানো হয়েছে।
প্রতিকৃতির পাশে লাগানো দুটি প্রচারপত্রে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে রবীন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্যও লেখা রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বলেন, এসব প্রতিকৃতি শিশু-কিশোরদের মুক্তচিন্তার বিকাশে সহায়ক হবে। কালি দিয়ে প্রতিকৃতি ঢেকে দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ফোরাম খুলনার আহ্বায়ক কাজল ইসলাম বলেন, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুক্তচিন্তা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়ে আসছে। তাঁর সাহিত্যকর্মকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সব পক্ষের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গ্রাফিতির মুখমণ্ডলে কালি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াশসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ।
খুলনার ঘটনায় কারা জড়িত, তা শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুসন্ধান চলছে।