
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর গ্যাস ও এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে গ্যাস ও তেল আমদানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে এলএনজি কার্গো না আসায় সরকারকে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।
বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে এলপিজি খাতেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সম্পূর্ণ বেসরকারি আমদানিনির্ভর এই খাতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ডিলার পর্যায়ে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি আমদানির খরচ আরও বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকিও রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারকে জ্বালানি ব্যবহারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, অপচয় রোধ এবং বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ব্যাংকিং সহায়তা সহজ করলে বেসরকারি খাত বিকল্প বাজার থেকে এলপিজি আমদানি করতে পারবে বলেও মনে করছেন তারা।
সামগ্রিকভাবে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পড়তে শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনীতি ও শিল্প উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।