
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতার খবরে বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আশ্বাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও তেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় দাম এখনও বেশি—তখন প্রতি ব্যারেল প্রায় ৭০ ডলার ছিল।
সংঘাতের সময় মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধান সূচকগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদে খুলে দেওয়ার শর্তে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। অপরদিকে, ইরানও হামলা বন্ধ হলে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাকার কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে ধীরে ধীরে জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামোগত ক্ষতি ও সরবরাহ সংকট পুরোপুরি কাটতে সময় লাগবে।
বিশ্ববাজারে এই স্বস্তির প্রভাব এশিয়ার দেশগুলোতেও পড়ছে, কারণ এসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।