নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন কেবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অঞ্চলের সমুদ্রতল দিয়ে যাওয়া ফাইবার অপটিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট, আর্থিক লেনদেন, ক্লাউড সেবা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাবমেরিন কেবল সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে স্থাপিত বিশেষ ফাইবার অপটিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বের ৯৯ শতাংশের বেশি আন্তর্জাতিক ডেটা আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পাঁচ শতাধিক সক্রিয় ও পরিকল্পনাধীন সাবমেরিন কেবল রয়েছে, যা প্রায় ১৮ লাখ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেবল গেছে। এসব কেবলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক, সরকারি যোগাযোগ, ই-কমার্স, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং ক্লাউড সেবা পরিচালিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের সময় সরাসরি হামলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের নোঙর, মাছ ধরার জাহাজ, ভূমিকম্প বা সমুদ্রের প্রাকৃতিক দুর্যোগেও কেবল বিচ্ছিন্ন হতে পারে। কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ইন্টারনেটের গতি কমে যাওয়া, ব্যাংকিং সেবায় বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বিলম্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, কোনো একটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট একযোগে বন্ধ হয়ে যাবে না। কারণ অধিকাংশ অপারেটরের বিকল্প রুট ও ব্যাকআপ নেটওয়ার্ক রয়েছে। তবুও সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অনিচ্ছাকৃত ক্ষতির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সমুদ্রতলের কেবল মেরামত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপত্তা ঝুঁকি, সমুদ্রে বিস্ফোরকের আশঙ্কা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় লাগায় ক্ষতিগ্রস্ত কেবল দ্রুত সচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাই বিশ্বের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তায় সাবমেরিন কেবলের সুরক্ষা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ