নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে সৌদি আরব নিজস্ব পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ পেতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের কিছু নিরাপত্তা শর্ত শিথিল করায় পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের আশঙ্কা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। এরপর এটি অনুমোদনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠানো হবে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১২৩ ধারা অনুযায়ী একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি। এর মাধ্যমে পারমাণবিক জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আইনি কাঠামো তৈরি হবে।
তবে প্রস্তাবিত চুক্তিতে পূর্বের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ শর্ত রাখা হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে সৌদি আরবের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত পরিদর্শন ব্যবস্থা বা ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’-এ যোগদানের বাধ্যবাধকতাও এই চুক্তিতে রাখা হয়নি।
তবে মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তি সৌদি আরবকে পারমাণবিক সহযোগিতার আইনি সুযোগ দিলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতেই ওয়াশিংটন এই উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্পে নতুন বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হবে।
চুক্তিটি কংগ্রেসে উপস্থাপনের পর প্রায় ৯০ দিন পর্যালোচনা করা হবে। এ সময় কংগ্রেস চাইলে আপত্তি তুলতে পারবে, তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতার কারণে চুক্তি আটকে দেওয়া সহজ হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts