নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে ক্রমেই জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগতি না হওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ—সব মিলিয়ে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে হচ্ছে তাকে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং দেশটির সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কয়েক মাস পরও ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি।
ইরানে আরও বড় সামরিক হামলা চালানোর বিষয়েও এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, ব্যাপক হামলা চালালেও তেহরানকে আলোচনায় ফেরানোর নিশ্চয়তা নেই। বরং এতে বেসামরিক হতাহতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সামনে বর্তমানে মূলত তিনটি পথ রয়েছে। প্রথমত, ইরানে আরও বড় সামরিক হামলা চালানো। দ্বিতীয়ত, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা। তৃতীয়ত, বিজয় দাবি করে যুদ্ধ থেকে সরে আসা।
তবে তিনটি পথের প্রতিটিতেই রয়েছে বড় ঝুঁকি। সামরিক অভিযান বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও মিত্রদের ওপর হামলার আশঙ্কা বাড়বে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। আর যুদ্ধ থেকে সরে এলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার প্রশ্ন উঠবে।
এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই ঘাটতি রাশিয়া ও চীনকে ইউক্রেন, ইউরোপ কিংবা তাইওয়ান ইস্যুতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে মাত্র ২৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, আবার দ্রুত সরে গেলেও নিজের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার দায় নিতে হতে পারে ট্রাম্পকে।