নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার না হলে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
বুধবার ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
লতিফ সিদ্দিকী বলেন, শাপলা চত্বরের মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করলে আগামী রোববার বা সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গিয়ে নিজেকে সমর্পণ করবেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না। আমি সব সময় আত্মপ্রকাশ করতে চাই। সেজন্য আজকে এসেছি।’
লতিফ সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, আমাকে যেতে হবে না। এর মধ্যে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলে তো ভিন্ন কথা। আমি এবার আর অপ্রস্তুত নই। তৈরি হয়ে আছি। আমার গাড়িতে ব্যাগ আছে, লেখালেখির জন্য খাতা-কলমও আছে।’
এদিন শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমার নতুন দিন ধার্য করেন।
আদালত থেকে বেরিয়ে লতিফ সিদ্দিকী জানান, সকালে তিনি জানতে পারেন শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা হয়েছে এবং সেখানে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত সহিংসতা ও অভিযানের ঘটনায় হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দিয়েছে প্রসিকিউশন।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, ওই ঘটনায় তদন্তে বহু প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হকসহ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে ২০২৫ সালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় একটি অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি জামিনে মুক্তি পান।