নিজস্ব প্রতিবেদক :
যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠিয়েছে পেট্রোবাংলা। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম ১৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা এবং যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির পাম্পমূল্য ৪৩ টাকা থেকে ৬৫ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেছেন, মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবটি মূলত সিএনজি স্টেশন মালিকদের দীর্ঘদিনের মার্জিন বৃদ্ধির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ১৫ টাকা ৫০ পয়সা এবং সিএনজি গ্রাহকশ্রেণিতে গ্যাসের দাম ৩৮ টাকা। স্টেশন মালিকদের মার্জিনসহ যানবাহনের জন্য সিএনজির পাম্পমূল্য ৪৩ টাকা।
সম্প্রতি মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশজুড়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এতে আবাসিক, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনেও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য ছিল ৩১ টাকা ৬৫ পয়সা, বিপরীতে গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ২৩ টাকা ৬৩ পয়সা। ফলে প্রতি ঘনমিটারে ৮ টাকা ২ পয়সা লোকসান হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, এলএনজি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপ মোকাবিলায় মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন।
এদিকে তিতাস, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, জালালাবাদ, পশ্চিমাঞ্চল ও সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানিও বিতরণ মাশুল বাড়ানোর আবেদন করেছে।
তবে গ্যাসের নতুন দাম কার্যকর করতে হলে পেট্রোবাংলাকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে হবে। কমিশনের গণশুনানি ও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।