নিউজ ডেস্ক।
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে গত ৪৮ ঘণ্টায় দুই শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি ও সুদানের নাগরিক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গ্রিসের সংবাদমাধ্যম ‘ডিমোক্রেটিয়া’র বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, লিবিয়ার উপকূল থেকে নৌপথে যাত্রা করে এসব অভিবাসী দক্ষিণ ক্রিটে পৌঁছান। অল্প সময়ের ব্যবধানে অভিবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ৪০ জন অভিবাসীকে বহনকারী একটি নৌকা ক্রিটের ইয়েরাপেত্রা এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে শনাক্ত করে ইউরোপীয় সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড সংস্থা ফ্রন্টেক্স। পরে একটি মাছ ধরার নৌকার সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে কোস্টগার্ডের টহল দল ইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে যায়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে আরও দুটি নৌকায় করে ১১২ জন অভিবাসী ক্রিটে পৌঁছান। তাদের মধ্যে ৭২ জন বাংলাদেশি, ৩১ জন সুদানের এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক ছিলেন।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের পরে হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে পৃথক এক অভিযানে দক্ষিণ সুদানের নাগরিক ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের একটি দলের পাচারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েরাপেত্রা থেকে প্রায় ২৮ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে আগের এক অভিযানে ৫০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের কয়েকজনের বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই কিশোরকে নৌকার চালক হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা জানিয়েছেন, জনপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাদের লিবিয়ার তোব্রুক থেকে ক্রিট পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে লিবিয়া থেকে ক্রিটের দিকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌযাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপটিতে অভিবাসী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।