নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সাভারের হেমায়েতপুরের শ্যামপুর এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি হাতবোমা ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ওই বাসায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাত পৌনে ২টা পর্যন্ত অভিযান চলে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা বিস্ফোরক নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম চালায়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার আরিফ ‘নব্য জেএমবি’র সঙ্গে যুক্ত। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া একটি পাইপ বোমার সঙ্গে সম্প্রতি মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া পাইপ বোমার মিল রয়েছে। এ কারণে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সাভারের ওই বাসা থেকে বোমা তৈরির অন্যতম উপকরণ টিএটিপি উদ্ধার করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের একটি ঘটনায় উদ্ধার হওয়া একই ধরনের উপকরণের সঙ্গে এর মিল রয়েছে বলেও কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
পুলিশের ধারণা, আশুলিয়ায় আগে পাওয়া একটি প্রেশার কুকার বোমাও হেমায়েতপুরের ওই বাসায় তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই আরিফকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ৫ আগস্ট ‘আব্বাস আলী’ নামের পরিচয়পত্র দিয়ে এক ব্যক্তি মাসিক চার হাজার টাকায় বাসাটির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। নিজেকে প্রাইভেটকার চালক পরিচয় দিয়ে তিনি সেখানে উঠেছিলেন। তবে দিনের বেলায় তাকে খুব একটা দেখা যেত না। রাতের দিকে ওই কক্ষে বিভিন্ন জিনিসপত্র আনার শব্দ পাওয়া যেত বলে বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পুলিশ বলছে, একই এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনেও আরও হাতবোমা রাখা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, গ্রেপ্তার আরিফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার কথিত এক ‘গুরু’র সন্ধানেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, ওই ব্যক্তি পেশায় হোমিও চিকিৎসক।
পুলিশ জানিয়েছে, কেরানীগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের ওপর ছুরিকাঘাত এবং কুমিল্লা ও সায়দাবাদের বিস্ফোরণের ঘটনায়ও আরিফের সংশ্লিষ্টতার তথ্য তারা পেয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।