নিজস্ব প্রতিবেদক::
দেশে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরছে না। কারণ, একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে। ফলে আয় বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সীমিত আয়ের মানুষকে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার কমে হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ।
আগস্টের মূল্যস্ফীতি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও মজুরি বৃদ্ধির হার গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। অর্থাৎ মানুষের আয় যে হারে বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়।
বিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, আর মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর ধরে এই পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি কম বাড়ায় মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে কমছে। ফলে অনেক পরিবারকে ব্যয় কমাতে হচ্ছে। কেউ কেউ আবার সঞ্চয় ভেঙে সংসারের খরচ চালাচ্ছেন।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, মূল্যস্ফীতি কমার সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির হারও বাড়লে পরিস্থিতিতে স্বস্তি আসত। কিন্তু বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির চাপ প্রকৃত মজুরির ওপর পড়ছে। আয় বাড়লেও বাড়তি ব্যয় সেই আয়কে গ্রাস করছে।
ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিকসের পরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো বেশি। এর সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়ও মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে। বোরো মৌসুম শেষ হলেও চালের দাম প্রত্যাশিতভাবে কমেনি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর না করে বাজার তদারকি আরও জোরদারের পরামর্শ দেন তিনি।
দেশের শ্রমশক্তির বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে। সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, কর্মরত মানুষের প্রায় ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে যুক্ত। গ্রামাঞ্চলে এ হার প্রায় ৮৮ শতাংশ এবং শহরে ৭৪ শতাংশ।
আগস্টে শিল্প খাতে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ। সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ।
ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও মজুরি বৃদ্ধির হার তার নিচে থাকায় নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ এখনো কাটেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts