নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের মনোযোগ আকর্ষণ নোটিসের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে দাঁড়াতে পারে। আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে অন্তত ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক প্রকল্প থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোল্টাইক প্রযুক্তি থেকেও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ খাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগের কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বিশেষ করে তরুণদের এ খাতে যুক্ত করতে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় কমাতে প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে কর সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রজ্ঞাপন জারির পর ১৮০ দিন পর্যন্ত এসব যন্ত্রাংশ আমদানিতে এক শতাংশের অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ছোট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ছোট প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনার কথা জানান তিনি।
বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য যাচাই করে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
চিহ্নিত জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব জমি বিনিয়োগকারীদের ব্যবহারের সুযোগ দিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কাজ করবে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম।
এ ছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় ৪৬০ মেগাওয়াট এবং মাতারবাড়িতে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।
সরকারি ভবনের ছাদেও পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ চলছে। ফেনীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ২৩টি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের সময় প্রকল্পটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবসায়িক মডেলও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংসদে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts