নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
সৌদি আরবে হুতিদের ধারাবাহিক হামলা বন্ধে ইরানকে প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে এ বার্তা পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ।
সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিকভাবে তৎপর হয়েছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত এলাকায় একটি বিমানঘাঁটি ও আশপাশের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালায় হুতিরা। এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হন। হামলাটি সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর পরদিন হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় সৌদি যুদ্ধবিমান ১২ ঘণ্টায় ৫৪টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে থাকা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের সামরিক ভূমিকা হলে তা সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
পাকিস্তানের পাঠানো বার্তার বিষয়ে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরান হুতিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।
অন্যদিকে ইরানের দুটি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহে তেহরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালাতে উৎসাহিত করেছে এবং অতিরিক্ত অর্থ ও অস্ত্র সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতার মূল লক্ষ্য, সৌদি আরবে হামলা আরও বাড়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। কারণ সংঘাত বিস্তৃত হলে সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তানকে আরও সরাসরি ভূমিকা নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের হামলা ও সৌদি পাল্টা হামলার ফলে ইয়েমেনকেন্দ্রিক সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।