নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। কৌশলগত দ্বীপগুলোর দিকে তাদের অগ্রযাত্রায় বাব আল-মানদেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
বৃহস্পতিবার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যায় মোখা বন্দর। এরপর হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও তারা অবস্থান জোরদার করেছে বলে ইয়েমেনের সরকারি সামরিক সূত্র জানিয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে হুতিদের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
এদিকে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৫ ডলারের ওপরে ছিল এবং সপ্তাহ শেষে চার মাসের মধ্যে প্রথমবার ১০০ ডলারের বেশি দামে থাকার পথে ছিল।
হুতিদের অগ্রযাত্রা বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে সৌদি আরবের জন্য। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত থাকায় সৌদি আরব লোহিত সাগরের পথকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছিল। বাব আল-মানদেবেও অস্থিরতা বাড়লে দেশটির তেল পরিবহন আরও চাপে পড়তে পারে।
হুতি পরিচালিত একটি মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য লোহিত সাগরে চলাচল নিরাপদ। তবে এই বক্তব্যের মধ্যেও সৌদি জাহাজকে সরাসরি হুমকির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
হুতিদের ঠেকাতে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনী উপকূলের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের আশপাশেও সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির সংঘাত আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করছে। মোখা দখলের ফলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের প্রবেশমুখে হুতিদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের ইরানের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে সংঘাত বাড়ানোর জন্য ইরানকে দায়ী করেছে। তবে তেহরান সামরিক পদক্ষেপ বা অবরোধের মাধ্যমে ইয়েমেন সংকট সমাধানের বিরোধিতা করে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে হুতি মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম তাদের সাম্প্রতিক অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করেছেন। ইয়েমেনে হামলা বন্ধ হলে তাদের অভিযানও থামবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।