নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
রায় অনুযায়ী, সাত আসামির সবাই বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়েছেন। তাদের সবাইকে পলাতক দেখিয়ে মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
রায়ে কাদের, নাছিম, আরাফাত, পরশ ও নিখিলের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ৫০ শতাংশ জব্দ করে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাদ্দাম ও ইনানের ক্ষেত্রে এ সম্পদ জব্দের আদেশ প্রযোজ্য হয়নি।
ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় রয়েছে। এই সময় শেষ হওয়ার আগে সম্পদ বাজেয়াপ্তের কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের নির্দেশ, উসকানি, প্ররোচনা ও সম্পৃক্ততায় এসব অপরাধ সংঘটিত হয়।
মামলার বিচার শুরু হয় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন। গত ১৭ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, আসামিদের পক্ষে তারা আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও ট্রাইব্যুনাল বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ও আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি সপ্তম রায়। এর আগে ছয়টি মামলার রায়ে ৬১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।