নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
মহেশখালীর দুই ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়ায় দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ দৈনিক ২ হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুটে (এমএমসিএফডি) উঠেছে। তবে চাহিদার তুলনায় এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাসের পরিমাণ ছিল ৯৯০ এমএমসিএফডি। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৬২০ এমএমসিএফডি।
এর আগে সোমবার রাত ৮টায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩৬২ এমএমসিএফডি। ওই সময় আরএলএনজি সরবরাহ ছিল ৭৬২ এমএমসিএফডি। অর্থাৎ ১৬ ঘণ্টার ব্যবধানে মোট সরবরাহ বেড়েছে ২৪৮ এমএমসিএফডি। একই সময়ে আরএলএনজি সরবরাহ বেড়েছে ২২৮ এমএমসিএফডি।
সোমবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে মহেশখালীর এমএলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বাড়িয়ে ৫০০ এমএমসিএফডি করা হয়। অন্যদিকে এসএলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ছিল ৪৮০ এমএমসিএফডি। এতে দুই টার্মিনাল মিলিয়ে এলএনজি সরবরাহ দাঁড়ায় ৯৮০ এমএমসিএফডি।
রাত ১০টার দিকে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৮২ এমএমসিএফডি। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬০২ এমএমসিএফডি। মঙ্গলবার দুপুরে আরএলএনজি আরও ১০ এমএমসিএফডি এবং দেশীয় গ্যাস ১৮ এমএমসিএফডি বাড়লে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬১০ এমএমসিএফডিতে পৌঁছায়।
মহেশখালীর দুই ভাসমান টার্মিনালের দৈনিক এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডি। সেই হিসাবে মঙ্গলবার দুপুরে ৯৯০ এমএমসিএফডি সরবরাহ দিয়ে টার্মিনাল দুটি তাদের সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহার করেছে।
তবে সরবরাহ বাড়লেও গ্যাসের ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছিলেন, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি। সে হিসাবে মঙ্গলবার দুপুরের সরবরাহের সঙ্গে চাহিদার ব্যবধান প্রায় ১ হাজার ১৯০ এমএমসিএফডি।
এদিকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকে কল-কারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ অগাস্টে সংকট তীব্র হওয়ার আগের পর্যায়ে ফেরার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর আমদানি করা গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে টার্মিনালটি আংশিক চালু হলেও কয়েক দফা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। ১৯ অগাস্ট এলএনজি মজুদ শেষ হয়ে টার্মিনালটি আবার বন্ধ হলে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২ হাজার ১৮৫ এমএমসিএফডিতে।
সংকট সামাল দিতে সরকার এলএনজি আমদানিও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্য কয়েকটি কার্গো কেনার পাশাপাশি অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুটি করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি সরাসরি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।