অর্থনীতি ডেস্ক :
চলতি করবর্ষে প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে করদাতাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। তবে সুযোগটি চালুর প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের গতি প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত বলে মনে করছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৬ লাখ ৩১ হাজার করদাতা। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫ হাজার করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করছেন। এই হিসাবে মঙ্গলবার নাগাদ অনলাইনে রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছানোর কথা।
গত ২০২৫-২৬ করবর্ষে ব্যক্তি ও কোম্পানি মিলিয়ে প্রায় ৪৯ লাখ ৫০ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছিলেন। ওই সময়ে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৩১ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেন।
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, চলতি করবর্ষের প্রথম প্রান্তিকের প্রণোদনা নিতে এখনো বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারী করদাতা রিটার্ন জমা দেননি। তবে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম প্রান্তিকের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এ উদ্যোগে করদাতাদের প্রকৃত সাড়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
কর্মকর্তারা আরও মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে সীমিত আয়ের অনেক মানুষের আয় আগের তুলনায় বাড়েনি। ফলে তাদের কেউ কেউ রিটার্নে করমুক্ত সীমার মধ্যে আয় দেখাতে পারেন বা ‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করতে পারেন।
রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে সরকারের পাওয়া রাজস্বেও বিষয়টির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ৬ লাখ ৩১ হাজার রিটার্নের বিপরীতে আয়কর হিসেবে প্রায় ২১৬ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে।
তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সরাসরি কর পরিশোধ কম হওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা বিভিন্ন উৎসে আগেই কর কেটে রাখার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। গাড়ির অগ্রিম কর, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, ব্যাংক হিসাবের সুদ এবং বিভিন্ন খাতে অগ্রিম আয়কর হিসেবে করদাতাদের কাছ থেকে আগে থেকেই অর্থ আদায় করা হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গাড়ির অগ্রিম কর থেকে ৫৭ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার বিপরীতে ৩০৪ কোটি টাকা, ব্যাংক হিসাবের সুদ থেকে ১৬০ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন খাতের অগ্রিম আয়কর থেকে ৮৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts