নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহনের ট্রাক ভাড়া বেড়েছে। গন্তব্যভেদে ট্রাকপ্রতি পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার সকাল থেকেই বাড়তি ভাড়া নিয়ে ট্রাকচালক, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা দেখা দেয়। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করা পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ট্রাক আমদানি পণ্য এবং ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাক রপ্তানি পণ্য পরিবহন করে। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক মালিকরা ভাড়া পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা বাড়িয়েছেন।
রোববার রাতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে প্রতি লিটার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দরে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেনাপোল থেকে ঢাকায় ১৫ টন পণ্য পরিবহনে আগে ট্রাক ভাড়া ছিল ২১ থেকে ২২ হাজার টাকা। এখন সেই ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা।
চট্টগ্রামগামী ট্রাকের ভাড়া আগে ছিল ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা। এক রাতের ব্যবধানে তা বেড়ে ৩৪ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রেও আগে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও এখন চাওয়া হচ্ছে ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকা।
বেনাপোল বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যাওয়া ট্রাকচালক খায়রুল ইসলাম বলেন, ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ট্রিপপ্রতি ট্রাক ভাড়া পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
আরেক চালক শরিফুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ভাড়া নির্ধারণ করতেও তারা সমস্যায় পড়ছেন। তার মতে, এর প্রভাব অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়বে।
বেনাপোল আমদানি রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও আমদানি করা পণ্যের দামের সঙ্গে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ যুক্ত হবে। এতে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।
বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজি বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় পরিবহন খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে ট্রাক ভাড়া বাড়াটাই স্বাভাবিক।
তিনি আরও বলেন, অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহন ব্যবসায়ীদের বার্ষিক চুক্তি রয়েছে। ফলে নতুন ভাড়ার সঙ্গে পুরোনো চুক্তির সমন্বয় করতে গিয়ে অনেকে লোকসানে পণ্য পরিবহন করছেন। জ্বালানি তেলের পাশাপাশি টায়ার, ট্রাকের যন্ত্রাংশ ও ফেরি ভাড়ার খরচও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন সংকটের কারণে বর্তমানে ট্রাক ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। এতে আমদানিকারকদের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচা পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে পণ্য খালাস করছেন। তেলের দাম, ফেরি ভাড়া বৃদ্ধি এবং ট্রাক সংকট—সব মিলিয়েই পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।