নিউজ প্রবাসী ডেক্স :ণ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পরিচালিত একটি ক্রেডিট ইউনিয়নের হিসাব যাচাই করে ৯৭ লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকার গরমিল পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংগঠনটির অর্থ আদায়কারী উত্তম সরকারকে গত ৩১ জুলাই থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
কোটালীপাড়া মাধ্যমিক শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি সরওয়ার হোসেন তালুকদার জানান, ২০০৯ সালের ২৫ জুন প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা ৭৯২ জন। এর মধ্যে ৩৩২ সদস্যের হিসাব যাচাই করে ৯৭ লাখ ৮ হাজার ৭০০ টাকার গরমিল পাওয়া গেছে। বাকি ৪৬০ সদস্যের হিসাব যাচাই করা হচ্ছে। সেখানেও গরমিল পাওয়া গেলে অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
পরিচালনা পর্ষদের অভিযোগ, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে অর্থ আদায়কারী হিসেবে কাজ করছিলেন উত্তম সরকার। তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে জামানত ও ঋণের কিস্তির টাকা সংগ্রহ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে এসব টাকা সংগঠনের ফান্ডে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জুলাই মাসে সংগঠনের ফান্ডের অর্থ ও ক্যাশবই মিলিয়ে দেখার সময় বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। এরপর উত্তমের কাছে হিসাব চাওয়া হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি করেন সংগঠনের কর্মকর্তারা।
তবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উত্তম সরকার। মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ঋণের কিস্তি ও জামানতের টাকা সংগ্রহের পর তিনি ম্যানেজার ইদ্রিসুর রহমানের কাছে জমা দিতেন। তাই অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তার ছিল না।
উত্তমের বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে ইদ্রিসুর রহমান বলেন, সংগ্রহ করা অর্থ ক্যাশবইয়ে লিপিবদ্ধ করে ব্যাংকে জমা দেওয়ার দায়িত্ব উত্তমের ছিল। কিন্তু অনেক সদস্যের ক্ষেত্রে সেই অর্থ জমা দেওয়া হয়নি।
এদিকে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, তাদের টাকা পাসবইয়ে জমা দেখানো হলেও ক্যাশবইয়ে তা লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ফলে তাদের সঞ্চয়ের অর্থ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি সরওয়ার হোসেন জানান, বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা শেষ হবে। এরপর গরমিলের প্রকৃত পরিমাণ নিশ্চিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উত্তমের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টাও চলছে।