নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে ওয়াশিংটনে ছিল ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতা ও কূটনৈতিক আয়োজন। সামরিক ব্যান্ড, গার্ড অব অনার ও বিমান মহড়ার মধ্য দিয়ে শিকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে এমন বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যেও দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে বড় ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা সীমিত বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন বিশ্লেষণে।
তিন দিনের সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন শি। দুই নেতার প্রকাশ্য বক্তব্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা এবং যোগাযোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেখা যায়। শি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়ানোর কথাও বলেন।
বৈঠকে নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার কথা জানান ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে নেওয়া সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আলোচনার নেপথ্যে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অনেকগুলোতেই মতপার্থক্য রয়েছে। বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতির সুযোগ থাকলেও ইরান, ইউক্রেইন, তাইওয়ান ও এআই নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ‘যুদ্ধবিরতি’ও আলোচনার অন্যতম বিষয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, বিদ্যমান বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। এর আগে দুই দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত একটি বোর্ড গঠনে সম্মত হলেও বড় কোনো সমঝোতা হয়নি।
তাইওয়ান ইস্যুতেও বেইজিংয়ের উদ্বেগ রয়েছে। তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য মার্কিন অস্ত্র বিক্রি এবং ওয়াশিংটনের এশিয়া নীতি চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছ থেকে কৃষিপণ্য কেনা ও বিরল খনিজ সরবরাহসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুবিধা প্রত্যাশা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের অগ্রাধিকার ভিন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে জোর দিচ্ছে, আর চীন প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে আগ্রহী। এ নিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে।
শির সফরের আরেকটি দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক পরিবেশ। প্রকাশ্য বক্তব্যে দুই নেতা সংলাপ ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘদিনের কৌশলগত বিরোধগুলো এখনো বহাল রয়েছে।
শুক্রবার শির যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কথা। তার আগে দুই নেতার আরও আলোচনা ও সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমান বৈঠকের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফল হিসেবে বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার প্রচেষ্টা এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রাখাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts