নিউজ প্রবাসী ডেস্ক
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আচারের বয়ামের ভেতরে লুকিয়ে আনা হীরা, স্বর্ণালংকার, প্লাটিনাম ও বিভিন্ন মূল্যবান পাথর জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জনি রহমান নামে এক যাত্রীকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
রোববার (১১ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এনবিআর জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিম ও বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা নজরদারি শুরু করেন। কলকাতা থেকে আসা একটি ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালানের সম্ভাব্য তথ্য পাওয়ার পর বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে তৎপরতা বাড়ানো হয়।
নজরদারির একপর্যায়ে ইমিগ্রেশন শেষ করে ব্যাগেজ ঘোষণা ছাড়াই গ্রিন চ্যানেল দিয়ে বের হওয়ার সময় জনি রহমানের ব্যাগ স্ক্যান করা হয়। স্ক্যানিংয়ে আচারের বয়ামের ভেতরে ধাতব পদার্থের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরে ব্যাগ তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, হীরা, প্লাটিনাম ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে হীরা বসানো ১৮ ক্যারেটের ৩৮৯টি স্বর্ণের আংটি, যার ওজন ৪৭৮ গ্রাম। এ ছাড়া ৪৫০ গ্রাম ওজনের ১৫১টি প্লাটিনামের আংটি, হীরা বসানো সাদা স্বর্ণের তিনটি অলংকার, দুটি রুপার আংটি, পাঁচটি স্বর্ণের লকেট, একটি স্বর্ণের চেইন এবং ১০৩ গ্রাম ওজনের ৪৭২টি স্বর্ণের নাকফুল পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া ৪৫ ক্যারেটের হীরা, পোখরাজ, রুবি ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরসহ মোট ৭২০টি পাথর এবং ২৩টি জুয়েলারি সার্টিফিকেট কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এনবিআরের হিসাবে, জব্দ করা পণ্যগুলোর মোট ওজন ১ হাজার ৫৪ গ্রাম।
ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে এসব মূল্যবান সামগ্রী আনার ঘটনায় জনি রহমানের বিরুদ্ধে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেন্টিভ টিমের পক্ষ থেকে থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এনবিআর।
ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।