নিউজ প্রবাসী ডেক্স :

বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে দুই দিন আগে শুকিয়ে যাওয়া ওই কূপে পড়ে যায় জইনুল্লাহ। কূপের প্রায় ৭০ মিটার নিচে আটকে থাকা শিশুটির পায়ের কাছে পানি জমে ছিল। উপর থেকেও তার মাথায় পানি পড়ছিল।

উদ্ধারকারীরা ক্যামেরার মাধ্যমে কূপের ভেতরে শিশুটির অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কিন্তু কূপটির ব্যাস মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার হওয়ায় কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সেখানে নামতে পারছিলেন না। শিশুটির কাছে দড়ি পৌঁছানো হলেও ভয় ও বয়সের কারণে সে সেটি শরীরে ঠিকভাবে বাঁধতে পারছিল না।

এরপর কয়েকজন শিশুকে কূপে নামানোর চেষ্টা করা হয়। আরও তিন শিশু সংকীর্ণ জায়গায় শ্বাস নিতে সমস্যায় পড়ায় শেষ পর্যন্ত ওপরে উঠে আসে।

এ অবস্থায় উদ্ধারকারীরা হজরত ওমরের সাহায্য নেন। এর আগে একই ধরনের একটি উদ্ধার অভিযানে কূপে নামার অভিজ্ঞতা ছিল তার। চাচার অনুমতি নিয়ে ঝুঁকি সত্ত্বেও কূপে নামতে রাজি হয় হজরত।

প্রথমবার নামার সময় কূপের সরু অংশে তার কাঁধ ও ঊরু আটকে যায়। ব্যথায় চিৎকার করলে তাকে ওপরে তুলে আনা হয়। পরে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে কূপের গভীরে পৌঁছাতে সক্ষম হয় সে।

নিচে গিয়ে হজরত জইনুল্লাহর কাছে পৌঁছে তার হাত দড়ির সঙ্গে বেঁধে দেয়। এরপর ওপরে থাকা শত শত মানুষ ধীরে ধীরে দড়ি টেনে দুজনকেই ওপরে তুলে আনেন। প্রথমে হজরতকে এবং পরে জইনুল্লাহকে জীবিত অবস্থায় কূপ থেকে বের করা হয়।

আফগানিস্তানে পানির সংকটের কারণে কৃষিজমিতে অসংখ্য গভীর ও সরু কূপ খনন করা হয়েছে। অনেক কূপ শুকিয়ে যাওয়ার পরও সেগুলোর মুখ যথাযথভাবে বন্ধ করা হয় না। ফলে এসব কূপ শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

জইনুল্লাহ যে কূপে পড়ে যায়, সেটিও দুই বছর আগে শুকিয়ে গিয়েছিল। কৃষকেরা কাঠ ও মাটি দিয়ে এর মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। পরে কাঠ পচে এবং মাটি আলগা হয়ে কূপটির মুখ আবার খুলে যায়।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে আফগানিস্তানে এ ধরনের ১০০টির বেশি নলকূপ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আক্রান্তদের বেশিরভাগই ১০ বছরের কম বয়সী শিশু। প্রায় অর্ধেক দুর্ঘটনায় শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts