নিউজ প্রবাসী ডেক্স:

দীর্ঘ বিরতির পর নতুন আঙ্গিকে ফিরতে যাচ্ছে আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগ (এপিএল)। আসন্ন এই টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার খেলোয়াড় ড্রাফটের তালিকায় জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের ১০ ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

ক্রিকেটবিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে এপিএলের খেলোয়াড় ড্রাফট। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৫০০ দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের নিবন্ধন থেকে চূড়ান্ত তালিকার জন্য ৪৬২ জনকে বাছাই করা হয়েছে।

পাঁচ দলের এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা আগামী ২৭ ডিসেম্বর। চূড়ান্ত ভেন্যু এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রতিযোগিতাটি সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজনের কথা রয়েছে।

ড্রাফটে বাংলাদেশিদের অবস্থান

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জায়গা পেয়েছেন ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে। অন্যদিকে প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে রয়েছেন পাঁচ বাংলাদেশি—মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন।

এ ছাড়া ড্রাফটের তালিকায় আছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও তালিকায়

ড্রাফটে ভারতের তিন ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সংস্করণ থেকে অবসর নেওয়া অলরাউন্ডার বিজয় শংকর। অন্য দুজন হলেন আয়ান খান ও মুরুগান অশ্বিন।

পাকিস্তান থেকে সর্বোচ্চ ২৯ জন ক্রিকেটার ড্রাফটে নাম দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাইম আইয়ুব, আরাফাত মিনহাস, হাসান নওয়াজ, ফখর জামান, ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নাসিম শাহ ও ফাহিম আশরাফ। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরও তালিকায় আছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে ড্রাফটে নিবন্ধন করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখও থাকছেন ড্রাফটে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, রিজা হেনড্রিকস, রোমারিও শেফার্ড, রভম্যান পাওয়েল, ইমরান তাহির ও আকিল হোসেন।

পাঁচ দলের নেতৃত্বে যারা

টুর্নামেন্টের পাঁচ দলের অধিনায়ক, প্রধান কোচ ও মেন্টরের নাম আগেই ঘোষণা করেছে এসিবি। ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘লিডার্স ড্রাফট’-এর মাধ্যমে দলগুলোর নেতৃত্ব ও কোচিং দায়িত্ব নির্ধারণ করেন মেন্টররা।

কান্দাহার ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক রশিদ খান, প্রধান কোচ রবি বোপারা এবং মেন্টর ইরফান পাঠান। আকসেল ইউনাইটেড কাবুলের অধিনায়ক আজমতউল্লাহ ওমরজাই, কোচ শেন ম্যাকডারমট এবং মেন্টর নিখিল চোপড়া।

নঙ্গরহার দলের নেতৃত্ব দেবেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। দলটির প্রধান কোচ টবি র‍্যাডফোর্ড ও মেন্টর মার্ক বাউচার। পাকতিয়া দলের অধিনায়ক রহমত শাহ, কোচ আজহার মাহমুদ এবং মেন্টর ওয়াকার ইউনিস। অন্যদিকে বলখ দলের অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান, প্রধান কোচ মিকি আর্থার এবং মেন্টর তিলকারত্নে দিলশান।

স্কোয়াড গঠনে নির্ধারিত নিয়ম

প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ সর্বোচ্চ ৭ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করতে পারবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি দলে থাকবেন ১৯ জন সক্রিয় ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন মূল ড্রাফট এবং দুজন সাপ্লিমেন্টারি রাউন্ড থেকে নেওয়া হবে।

খেলার একাদশে অন্তত সাতজন আফগান ক্রিকেটার রাখতে হবে, যাঁদের মধ্যে একজন থাকবেন ইমার্জিং খেলোয়াড়। বিদেশি ক্রিকেটার খেলানো যাবে সর্বোচ্চ চারজন। এ ছাড়া প্রথম নয়টি ড্রাফট পিকের মধ্যে অন্তত তিনজন বিদেশি ক্রিকেটার নিতে হবে।

২০১৮ সালে এপিএলের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে আর্থিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রথম আসরের পর বন্ধ হয়ে যায় প্রতিযোগিতাটি। দীর্ঘ বিরতি শেষে এবার নতুন কাঠামো ও পরিকল্পনায় আফগানিস্তানের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts