নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
এক মাসের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও সরাসরি সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন হামলার পর জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিহত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি ও ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে ইরানি সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশটির বিভিন্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায়ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর-আইআরজিসি জর্ডানের আকাবায় মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে। জর্ডান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ঢোকা ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১০টি প্রতিহত করা হয়েছে। বাহরাইন, কুয়েত ও উত্তর ইরাকের এরবিলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।
নতুন করে এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।
এদিকে ইরানের পাল্টা হামলার পর আরও কঠোর ও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে তেহরানও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি ইরান।