আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পশ্চিম এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে চিহ্নিত করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিশর। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে দেশ চারটি।

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক শেষে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব বক্তব্য দেন। তাঁদের মতে, ইসরায়েলের বিভিন্ন নীতি বিশ্বজুড়ে অবিচার ও বৈষম্যের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

বৈঠকে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বন্ধ এবং গাজায় নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

গাজায় পুনর্গঠন কার্যক্রম চালু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাঁদের মতে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা জরুরি।

ইরান সংকট সমাধানে সংলাপের তাগিদ

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নতুন করে জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন চার দেশের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই এ সংকটের সমাধান সম্ভব।

এ সময় জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তাঁরা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর সৌদি আরবে হামলা জোরদার করার খবরের মধ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

হুতিদের হামলার নিন্দা

বৈঠকে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তাঁরা হুতি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য উসকানি হিসেবে উল্লেখ করে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের বেসামরিক জনগণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলার নিন্দা জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিন সংকট, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts