নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে একটি বছর যেন হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এবার এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী।
পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে ভর্তি কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। তবে প্রস্তুতির জন্য এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবার সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন ইংরেজি বিষয়ে। এ বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। অন্যদিকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩ হাজার ৮৪৯ জন। ইংরেজিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সামগ্রিকভাবে পাসের হার কমে যাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি পূরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রয়োজনে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে কোনো শিক্ষকের চাকরি যাবে না বলে আশ্বস্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী।
পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে। মন্ত্রী বলেন, গত বছর পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছিল।
এবার খাতা মূল্যায়নে বড় ধরনের ভুল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পরিবর্তন কিংবা সংঘবদ্ধভাবে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধেও কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
উচ্চশিক্ষায় ভর্তির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে দেশে প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর তুলনায় আসনসংখ্যা বেশি হওয়ায় ভর্তির সুযোগের ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। তবে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় জিপিএর শর্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।