নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বেসরকারি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। ফলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্ধারিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) গ্রহণে আর আইনি বাধা থাকছে না।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। তবে রিটকারী ৪৬ শিক্ষকের স্বার্থ রক্ষায় তাদের জন্য ৪৬টি পদ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের জন্য গত ২৫ মার্চ এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগসংক্রান্ত একটি সংশোধনী জারি করা হয়। সংশোধিত নিয়মে প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করতে মোট ১৮ বছরের শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন বছরসহ মোট ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলেই প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ ছিল।
নতুন শর্তকে বৈষম্যমূলক দাবি করে প্রথমে ১২ জন শিক্ষক হাইকোর্টে রিট করেন। পরে আরও কয়েকজন এতে যুক্ত হলে রিটকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৬ জনে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট সরকারের ২৫ মার্চের সংশোধনী বাতিল করে রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করলে চেম্বার আদালত রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। তবে রিটকারী ৪৬ শিক্ষকের জন্য সংরক্ষিত ৪৬টি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ শুনানিতে হবে।
আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতায় প্রধান শিক্ষক পদে ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্যপদ ছিল। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপার পদে ৩ হাজার ১৩১টি এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ ও সুপার পদে ১৫০টি শূন্যপদ রয়েছে।