নিউজ প্রবাসী ডেক্স:
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার দর ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে ১১১ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫০ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১০২ দশমিক ৫৬ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে তেলের দামে বড় উল্লম্ফনের পর এবার কিছুটা সংশোধন দেখা যাচ্ছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের আশা এবং সপ্তাহান্তে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত না ঘটায় জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার জানিয়েছেন, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, আলোচনা চলছে এবং এতে অগ্রগতিও হচ্ছে। একই সঙ্গে তেহরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় আন্তর্জাতিক সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলের ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে তিনটি জাহাজ-ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরে তুলনায় অক্টোবরে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়েছে। তবে এ সময়ে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথিদের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
অন্যদিকে, তেলের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস ডিসেম্বরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী বছরের আগে উৎপাদন নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং ওপেক প্লাসের উৎপাদননীতি—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।