নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গাজী টায়ার্স কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজ ১৮২ জনের কারও সন্ধান মেলেনি। স্বজনরা ধরে নিয়েছেন, আগুনে পুড়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে। এখন তারা নিখোঁজ স্বজনদের মৃত্যুসনদ চান, যাতে পরিবারের অন্যান্য সরকারি কাজ অন্তত সম্পন্ন করা যায়।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রাতে কারখানাটিতে দ্বিতীয় দফায় লুটপাটের পর আগুন দেওয়া হয়। পরদিন স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮২ জন নিখোঁজের তালিকা তৈরি করে প্রশাসন। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় ২২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুরোপুরি আগুন নেভাতে সময় লাগে পাঁচ দিন।
পরে কারখানা থেকে ১৫ খণ্ড হাড় উদ্ধার করে পুলিশ। সেগুলো এখনো সিআইডির ফরেনসিক বিভাগে রয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে হাড়গুলো নিখোঁজদের কি না নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা না থাকায় পরীক্ষা হয়নি।
নিখোঁজদের পরিবারগুলোর অভিযোগ, মৃত্যুর সরকারি স্বীকৃতি না থাকায় তারা ওয়ারিশ সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করতে পারছেন না। বন্ধ হয়ে গেছে অনেক পরিবারের স্বাভাবিক জীবনও।
এক নিখোঁজের স্ত্রী বলেন, “দিন যাইতাছে সবার ঠিকমতই, কিন্তু আমাদের জীবনডা তো থাইমা আছে।”
আর এক বৃদ্ধা মা প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়েছেন, ছেলের অন্তত হাড়গোড় পেলেও তিনি তা বুকে জড়িয়ে দুঃখ ভুলতে পারতেন।
পুলিশ বলছে, ১৮২ জনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং তাদের মৃত্যুর ধারণাই করা হচ্ছে। তবে নিখোঁজদের বিষয়ে আলাদা কোনো মামলা হয়নি। ফলে দুই বছর পরও স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts