নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
ভারতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে আসাদ আলম সিয়ামকে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবে এখনো সম্মতি দেয়নি নয়াদিল্লি। ঢাকার পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানোর পর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভারতের ‘অ্যাগ্রিমঁ’ না পাওয়ায় নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগোতে পারছে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই সিয়ামের নিয়োগের বিষয়টি আটকে আছে।
কোনো কূটনীতিককে কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত বা হাই কমিশনার হিসেবে পাঠানোর আগে স্বাগতিক দেশের সম্মতি নেওয়া আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রচলিত নিয়ম। ভিয়েনা কনভেনশনের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদেও এ বিষয়ে বিধান রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র প্রস্তাবিত কূটনীতিককে গ্রহণ না করলে সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানানোও বাধ্যতামূলক নয়।
বর্তমানে ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে তার নতুন দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে তার স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনো অনিশ্চিত হয়ে আছে।
আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের একজন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটেই দিল্লিতে সিয়ামের নিয়োগের বিষয়টি ঝুলে থাকার ঘটনা সামনে এসেছে। গত অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়। একই সময়ে ব্রিকস নেতাদের সম্মেলনেও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি অংশ নেননি।
তবে রাজনৈতিক দূরত্বের মধ্যেও দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সম্প্রতি ঢাকায় দুই দেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক হয়েছে। আন্তঃসীমান্ত ট্রেন চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।
গত কয়েক মাসে বিশেষজ্ঞ ও কারিগরি পর্যায়েও দুই দেশের যোগাযোগ পুনরায় সক্রিয় হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সম্পর্কের শীতলতা সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে বলে দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পেছনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টিও প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি ভারতে যান। তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকার অনুরোধে নয়াদিল্লির অবস্থান এখনো পরিবর্তিত হয়নি।
এদিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে উভয় পক্ষই কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার চেষ্টা করছে। চলতি বছরের শুরুতে ভারত সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে হাই কমিশনার হিসেবে পাঠিয়েছে। জুনের শেষ দিকে তিনি দায়িত্ব নেন।
দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ফলে দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনার নিয়োগের বিষয়টি এখন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।