নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে গিয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি হয়েছেন বাংলাদেশের বহু তরুণ-তরুণী। সেখানে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা, অমানবিক নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং মুক্তির জন্য অর্থ পরিশোধের পর দেশে ফিরলেও তাদের দুর্ভোগ শেষ হয়নি। ঋণের বোঝা, মামলা এবং পাওনাদারদের চাপে অনেকেই এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যে জানা যায়, গত দেড় বছরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় গেলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি চাকরি না পেয়ে স্ক্যাম সেন্টারে আটকা পড়েন। চলতি বছরের জুনে কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।
ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফিরে আসা ৯৮ শতাংশ ব্যক্তি প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। ৯০ শতাংশকে জোর করে অনলাইন প্রতারণার কাজে যুক্ত করা হয়, ৮৮ শতাংশের চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল না এবং ৮৬ শতাংশের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। এছাড়া ২৭ শতাংশ শারীরিক এবং ৩৮ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
রাজবাড়ীর আলামিন মিয়া, শরীয়তপুরের মন্নান ছৈয়াল ও মানিকগঞ্জের তালাত মাহমুদসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, রেস্টুরেন্ট, ডেটা এন্ট্রি বা কুরিয়ার সার্ভিসে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর কাজের ভিসার বদলে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হয়েছে জানতে পারেন তারা। পরে বিভিন্ন স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে অনলাইনে বিদেশি নাগরিকদের প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। কাজে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর, খাবার বন্ধ এবং বৈদ্যুতিক শকসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, স্ক্যাম সেন্টার থেকে বের হতে মুক্তিপণ দিতে হয়েছে। পরে নিজ খরচে দেশে ফিরলেও এখন তারা ঋণের কিস্তি, পাওনাদারের চাপ এবং আইনি জটিলতায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রতারকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, আবার কেউ পাল্টা মামলারও শিকার হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে চাকরির নামে এই প্রতারণা এখন মানবপাচারের নতুন রূপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও অবৈধ দালালচক্রের বিষয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আজ ৩০ জুলাই আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে সংশ্লিষ্টরা এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts