নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিসা হঠাৎ বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থানরত অনেক প্রবাসী ভিসা নবায়ন করতেও সমস্যার মুখে পড়ছেন। ফলে ছুটিতে দেশে থাকা অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই তড়িঘড়ি করে কর্মস্থলে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কয়েক দিনের ব্যবধানে বিমান ভাড়াও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
প্রবাসীদের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে শত শত বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে। তবে ঠিক কতজন এ সমস্যায় পড়েছেন এবং কী কারণে ভিসা বাতিল করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমিরাত প্রবাসীদের বিভিন্ন গ্রুপে ভিসা বাতিল ও নবায়ন জটিলতা নিয়ে অসংখ্য পোস্ট দেখা যাচ্ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, দেশে ছুটিতে এসে ফিরে যাওয়ার আগে জানতে পারছেন তাদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ নবায়নের আবেদন করেও অনুমোদন পাচ্ছেন না।
এ পরিস্থিতিতে ২৭ জুলাই আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিষয়টি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এটি কোনো কারিগরি ত্রুটি নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে প্রবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচির প্রধান শরীফুল হাসান জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে শত শত প্রবাসীর ভিসা বাতিল হওয়ার তথ্য তাদের কাছে এসেছে। বিশেষ করে যারা ছুটিতে দেশে এসেছিলেন, তারাই বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
ভিসা বাতিলের আতঙ্কে অনেক প্রবাসী নির্ধারিত সময়ের আগেই আমিরাতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এর প্রভাব পড়েছে বিমান টিকিটের বাজারেও। আগে যেখানে ঢাকা-দুবাই রুটের একমুখী ভাড়া ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা, সেখানে বর্তমানে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে টিকিটের দাম ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। সরাসরি ফ্লাইটের ভাড়া আরও বেশি।
প্রবাসীরা দ্রুত এ সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে দূতাবাস জানিয়েছে, ভিসা বাতিলের প্রকৃত কারণ জানা গেলেই প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।