নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল খননের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও চলছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তাও চাপে পড়তে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য অর্থায়ন, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির সুযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল কার্যকর করার বিষয়ে পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন।
বৈঠকে তিনি প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts