নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা সামাল দিতে কাতার থেকে অতিরিক্ত দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই বৈঠকে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।
বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের চুক্তির আওতায় এলএনজির অতিরিক্ত কার্গো দুটি কেনা হবে।
অনুমোদিত সূচি অনুযায়ী, এলএনজির প্রথম কার্গোটি ৬ নভেম্বর এবং দ্বিতীয়টি ২২ নভেম্বর সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এ দুই চালানের দাম বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির নির্ধারিত দামের চেয়ে আলাদা হবে। সরকারি ক্রয় কমিটির প্রস্তাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) দামের চেয়ে প্রতি এমএমবিটিইউতে ০.০২ ডলার কম।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি আমদানির পরিমাণ বাড়াচ্ছে সরকার। এর আগে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের জন্যও একাধিক কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশও সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে।
১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানি
এদিকে কৃষি উৎপাদনের প্রয়োজন মেটাতে কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টন সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
এর মধ্যে কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আনা হবে। সৌদি আরব থেকে কেনা হবে ৪০ হাজার টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার।
এসব সার আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা।
এ ছাড়া নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এ ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিসিজিপির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে থাকায় অনলাইনে বৈঠকে যুক্ত হন।