
নিউজ প্রবাসী ডেক্স :
আশুলিয়ার তুরাগ নদে গত ২২ জুন ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ যেখানে দাবি করছে, ঘটনাস্থলে কোনো ধাওয়া বা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি, সেখানে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের একাধিক বক্তব্যে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন গরুর হাটের পাশে একটি ট্রলার ভিড়তেই পুলিশ এগিয়ে গেলে আতঙ্কে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা কয়েকজনকে নদী থেকে উদ্ধারও করেন। তবে পুলিশ পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, পুলিশ বলছে তারা শুধু নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নদীতে ধাওয়া, ঝাঁপ বা একাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই।
এরই মধ্যে তুরাগ নদ থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর সঙ্গে রাজনৈতিক ঘটনার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের পরিবারের কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও প্রথমদিকে পুলিশ তাদের এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী আরও দাবি করেন, ঘটনার পরদিনও পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিল। তবে নদীতে নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস বা অন্য কোনো উদ্ধার অভিযান তারা দেখেননি।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘একাধিক লাশ উদ্ধার’ সংক্রান্ত তথ্যকে গুজব হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
ঘটনার আইনি দিক নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, যদি ধাওয়ার অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে পুরো ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা উচিত বলেও তিনি মত দেন।
তুরাগের এই ঘটনাকে ঘিরে এখনো বিভিন্ন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। পুলিশের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং উদ্ধার হওয়া মরদেহের ঘটনাপ্রবাহ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।